Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
বাংলাদেশ, , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

সময়ের আলোছায়ায় দুই জীবনের গল্প!

সিএনবি ডেস্ক  ২০১৯-০৫-৩১ ১৫:০২:৫১  

সব জীবনের গল্প এক রকম নয়।গল্পের বিষয় বস্তুর ভিন্নতা এবং ব্যাপ্তি,স্বল্প কিংবা দীর্ঘ যেমনই হোক;সময়ের আলোছায়ায় জীবন কখনো রঙিন,কখনো মলিন।জীবনের বাঁকে-বাঁকে অভাব-অনঢন,শোকের মাতম,সূখের উল্লাস,প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ,জয়-পরাজয়,দু:খ-কষ্ট,হাসি-কান্না নিহিত বলেই বৈচিত্রময় জগত ও জীবন।

সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে মানুষ বাঁচার জন্য পানাহার করে।তাই একসময় খাদ্য আহরণ করাই ছিলো মানুষের মৌলিক কর্ম।সময়ের পরিবর্তনে এবং কালের বিবর্তনে খাদ্যের চাহিদা পূরণে অর্থ উপার্জন করাই এখন মানুষের মৌলিক কর্মে পরিণত হয়েছে। এই কর্ম প্রয়াস যদি সুকর্মের পরিবর্তে কুকর্মের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়,তাহলে জীবনের কোন রঙ থাকেনা।

এক পলকে একটি রঙিন জীবনের কালো সমাপ্তি এবং একটি মলিন জীবনের উদয়কালের দৃশ্য আমি একই সময়ে দেখেছি।৩১মে শুক্রবার,(২৫রমজান) ভোর রাত সাড়ে ৩টা জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক,অনুজ প্রতিম সুহৃদ আবু তাহেরের ফোন কল রিসিভ করলাম।ফোনের ওপাশে প্রয়াত বাবা-মায়ের স্মৃতি জাগরণে তাহেরের আদ্র কন্ঠস্বর শুণে তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলাম।

যৌথ পরিবারে সে সর্বকনিষ্ট সদস্য,ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে,বছর দেড়েক পূর্বে মাকেও হারিয়েছে।দিন শেষে ঘরে ফেরার পর প্রশান্তির ঝর্ণাধারায় স্নাত হতে না’পারার কষ্ট-যাতনা বাবার মৃত্যুর পর আমি তীব্রভাবে অনুভব করছি।তাহেরের আবেগময়তার আরেকটি কারণ হলো-তার বাসায় নবাগত কর্ম সহায়ক ছেলেটি।সেহেরি খাওয়ার সময় পাশে দাঁড়ানো ছেলেটিকে তাহের জিঙ্গেস করলো তার বাড়ী কোথায়?

বাবা-মা,ভাই-বোন কয়জন ইত্যাদি।ছেলেটি একে একে সব বলে যাচ্ছে। সবশেষে জানতে চাইলো মাকে ছাড়া থাকতে পারবে কিনা!অথচ ছেলেটি খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো-গত রমজানে মূখে ঘাঁ রোগের সংক্রমণে তার মা মারা গেছে। বড়জোর ১০বছর বয়স ছেলেটির।মরণের অর্থ জানার অনেক আগেই মানব জীবনের অনিবার্য সত্য মৃত্যু তার কাছে পরম সত্যরূপে অাবির্ভূত হয়েছে।

স্মৃতি ধূসর অতীত এবং অনিশ্চিত আগামীর মধ্যবর্তি বর্তমানে ছেলেটির মলিন জীবনের সবটুকু কালোরঙ নিমিষে হারিয়ে গেলো নব উদিত সূর্যহাসির পবিত্র আলোয়। এরিই নাম জীবন।ছেলেটির বিষয়ে আলাপরত সময়ে যে সংবাদটি পেলাম-তাহলো একটি রঙিন জীবনের কালো পরিণতিতে পরিসমাপ্তির।দেশের শীর্ষ ইয়াবা ডন টেকনাফের সাইফুল করিম বন্দুক যুদ্ধে নিহত।

অযুত নিযুত লক্ষ কোটি জীবনে অন্ধকার নামিয়ে অর্জিত অবৈধ অর্থ বিত্তে অল্প কিছু সময় পূর্বেও ছিলো যার রঙের জীবন;সেই জীবন আর নেই।হয়তো বা তাহেরের বাসার ছেলেটির সম বয়সী একজন ছেলে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু হওয়া সাইফুলেরও থাকতে পারে।দুটি ছেলের একজন বেড়ে উঠবে প্রয়াত বিত্তহীন শ্রমিকের সন্তান পরিচয়ে;অন্যজন বেড়ে উঠবে বিত্তশালী নিহত অপরাধীর সন্তান পরিচয়ে।

জন্মদাতার অপরাধের ভার নিস্পাপ সন্তানটি বহন করতে পারবে কিনা!সেই বোধ যেখানে নেই সেখানে অর্থ থাকলেই জীবন অর্থবহ হয়না বরং দূর্বিষহ হয়ে উঠে।শঙ্কিত রঙিন জীবনের চেয়ে মলিন জীবনের পুষ্পিত হাসি নিশ্চয় স্বর্গীয় সুন্দর।তারচেয়ে অনেক বেশি সুন্দর হলো জীবন।

মির্জা ওবাইদ রুমেল,

লেখক-সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা,কক্সবাজার।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন


ফেইসবুকে আমরা

বিজ্ঞাপন