Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
বাংলাদেশ, , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও পাহাড়তলীর অজানা ইতিহাস!

সিএনবি ডেস্ক  ২০১৯-০৫-১৬ ২২:৫৩:১৪  

সমুদ্র জনপদ কক্সবাজারের গোড়াপত্তনের সময়কাল থেকে সমকালের প্রাচীন ইতিহাসের এক গুরুত্ববহ অধ্যায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।সুদীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কক্সবাজারের ঘটানা প্রবাহের অজানা কথা প্রজন্মের সম্মুখে উপস্থাপনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকার ও গবেষণালব্ধ তথ্যাবলী বিগত ২০০৮ সালের পুরো মার্চ মাসের ৩১দিন ধারাবাহিক ভাবে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

কালোত্তীর্ণ সেই সূর্য সন্তানদের মধ্যে সর্ব জনাব,এড.নুর আহমেদ(এম.এন.এ),শমসের আলম চৌধুরী,একেএম মোজাম্মেল হক ও বেগম রওশন আরা হক,ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী,অবিনাশ চন্দ্র সহ অনেকে আমাদের মাঝে আজ আর নেই।এড.জহিরুল ইসলাম,গোলাম রব্বান,কামাল হোসেন চৌধুরী,নজরুল ইসলাম চৌধুরী সহ পিতা মুজিবের অনেক আর্দশিক উত্তরাধিকার এখনো জীবিত আছেন।

তাদের প্রদেয় তথ্যে এবং আমার সুদীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে তথ্যানুসন্ধানী কার্যক্রমে উঠে আসা নুরুল হুদা কুতুবী নামে একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার জীবন বৃত্তান্তের আদ্যোপান্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়,কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে জনবসতি গড়ে উঠার অজানা ইতিহাস।স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ এড.আবুল কালাম আজাদ,প্রফেসর সিরাজুল মোস্তাফা,মিন্টু বড়ুয়া এবং নুরুল হুদা কুতুবীর পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রদেয় বক্তব্য এবং প্রাপ্ত নথিপত্র সূত্রে জানা যায়-

কুতুবদিয়ার সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আনোয়ার আলী মিয়ার পুত্র নুরুল হুদা কুতুবী(তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা)১৯৬১সালে কক্সবাজার এসে বর্তমান কালোর দোকান দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী স্থানে বসতি শুরু করেন।ক্রমান্বয়ে জনবসতি বাড়তে থাকলে তিনি ১৯৬৩ সালে এলাকার নাম ‘পাহাড়তলী’ নামকরণ করেন।মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী নুরুল হুদা কুতুবীর কনে জামাতা প্রয়াত মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।

তিনি কক্সবাজারে সর্ব প্রথম আবাসিক হোটেল, নিরালা, কাকলি এবং রুপালী প্রতিষ্ঠা করেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন অনেক নেতা তৎকালীন সময়ে কক্সবাজার আসলে নুরুল হুদা কুতুবীর পাহাড়তলীস্থ “কুতুবী ম্যানশন” নামক বাস ভবনে আতেথিয়েতা গ্রহণ ও রাত্রি যাপন করতেন।মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ফরহাদ “কুতুবী ম্যানশনে” দীর্ঘ সময় গৃহশিক্ষক হিসেবে অতিবাহিত করেছিলেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৮বছর পরে কক্সবাজার পৌর শহরের অভ্যন্তরে জন চলাচলের গুরুপূর্ণ সড়ক সমূহের নাম জাতীর শ্রেষ্ট সন্তানদের নামে নামকরণ প্রক্রিয়া শুরু ও বাস্তবায়ন করে এক যুগান্তকারী ইতিহাসের সূচনা করেন-বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক,পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদা কুতুবী প্রয়াত হয়েছেন দীর্ঘ সময় পূর্বে।তার স্মৃতি স্মরণে ও একটি এলাকার গোড়াপত্তনের ইতিহাসের আলোকে পাহাড়তলীস্থ ‘কুতুবী ম্যানশন’ থেকে বইল্যাপাড়া ডিওয়ার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘের সড়কটি ‘নামকরণ’ করা হলে ইতিহাসের একটি অজানা অধ্যায়ের পুন:জন্ম হবে।

মির্জা ওবাইদ রুমেল

লেখক-সাংবাদিক ও

সাবেক ছাত্রনেতা,কক্সবাজার।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন


ফেইসবুকে আমরা

বিজ্ঞাপন